Spider-Man: 𝗡𝗼 𝗪𝗮𝘆 𝗛𝗼𝗺𝗲 2022 Review & Explained Bangla

এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বব্যাপী যে সিনেমাটি আলোড়ন তুলেছে অর্থাৎ Spider-Man: 𝗡𝗼 𝗪𝗮𝘆 𝗛𝗼𝗺𝗲 এই সিনেমাটি নিয়ে আজকে আমাদের মুভি রিভিউ

স্পাইডার ম্যান নো ওয়ে হোম মুভি রিভিউ ২০২২

(সম্পূর্ণ স্পয়লার ফ্রি রিভিউ)

“স্পাইডারম্যান”- শব্দটা শোনার সাথে সাথে হাজারো মানুষের মনে হাজারো কথা, ছবি, ভাবনা ভেসে উঠে। কারো কাছে স্পাইডারম্যান বাধা-বিপত্তির মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা, কারো কাছে হারানো শৈশবের মিষ্টি স্মৃতি, আবার কারো কাছে ফ্যান্টাসি, কমিকবুকের জাদুময় এক জগতে প্রবেশ করার দ্বার এই স্পাইডারম্যান। তবে এক জায়গায় সবাই একমত- পৃথিবীর প্রায় সব কয়জন মানুষ ই কোন না কোনভাবে এই কালজয়ী চরিত্রের সাথে পরিচিত। দুনিয়া জুড়ে সমাদৃত এই স্পাইডির লেগ্যাসির প্রতি এক মর্মস্পর্শী লাভ লেটার Spider-Man: 𝗡𝗼 𝗪𝗮𝘆 𝗛𝗼𝗺𝗲 2021

২০০২ সালে প্রথমবারের মত এই সুপারহিরোকে পৃথিবী কমিকবুকের পাতা থেকে বড় পর্দায় দেখতে পায়। সেই প্রথম সাক্ষাতেই পিটার পার্কারের প্রেমে পড়ে যায় পুরো পৃথিবী। বয়ঃসন্ধি পার হতে থাকা ছেলেপেলেদের অস্তিত্বের অনেক বড় অংশ হয়ে পড়ে পিটার পার্কার আর স্পাইডারম্যান। লক্ষ লক্ষ টিনেজার নিজেদের ছায়া দেখতে পায় ১৫ বছর বয়সী এই সুপারহিরোর মধ্যে। সেই ‘০২ সাল থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত স্পাইডি চরিত্রে এসেছে অনেক বিবর্তন। এ সব বিবর্তনকে আলিঙ্গন করে সকল স্পাইডার-ফ্যানদের জন্য উপহার ছিল ‘নো ওয়ে হোম’।

‘নো ওয়ে হোম’- এর মূল থীম স্পাইডারম্যান। এমসিইউ’র মাল্টিভার্স, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ যত যাই মুভিতে রয়েছে সবকিছুর উর্ধ্বে রয়েছে টম হল্যান্ড অভিনীত পিটার পার্কার এবং হল্যান্ডের আগে আসা স্পাইডারম্যানের লেগ্যাসি। গ্রিন গবলিন, ডক অকের মত লেজেন্ডারি ভিলেনদের ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে পরিচালক জন ওয়াটস শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন এই চরিত্রের পূর্বসুরীদের।

কারণ টোবি ম্যাগোয়ার বা এন্ড্রু গারফিল্ডের বানানো পথ ছাড়া টম হল্যান্ডের স্পাইডারম্যানের বর্তমান অবস্থান বা জনপ্রিয়তা কোনটাই সম্ভব ছিল না। তাই পরিপূর্ণ সম্মানের সাথেই ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে এই আধুনিক কিংবদন্তীসুলভ চরিত্রদের।

এই মুভিটি ছিল এমসিইউর ‘হোমকামিং’ ট্রিলজির শেষ সিনেমা। এমসিইউর পিটার পার্কারের গল্প এক অদ্ভুত সুন্দর পূর্ণতা পেল এই মুভির মধ্য দিয়ে। একই সাথে জন ওয়াটস অতীতকে ট্রিবিউট দিয়েছেন, বর্তমান ট্রিলজির উপযুক্ত একটি উপসংহার টেনেছেন আবার ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময় এক দরজা খুলে দিয়েছেন।

‘নো ওয়ে হোম’-এর স্টোরি, ডিরেকশন, এক্টিং, ভিজ্যুয়ালস, একশন, এডিটিং সবকিছু এত সুন্দরভাবে ক্লিক করেছে যে শুধু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। থিয়েটারে দেখার সময় ক্ষণে ক্ষণে যে উত্তেজনা আর উন্মাদনা কাজ করছিল তা অতুলনীয়। বিশাল একশন সিন থেকে শুরু করে একদম ইন্টিমেট ক্যারেক্টার মোমেন্ট গুলো সবকিছুই সমান হারে উপভোগ্য ছিল।

অভিনয়ের প্রশংসা করতেই হয় এখানে। টম হল্যান্ড অসাধারণ এক স্পাইডি- তার প্রমাণ আরেকবার করল। পিটার পার্কার এবং স্পাইডারম্যান দুই রূপকেই এত পারফেক্টলি ক্যাপচার করতে পারাটা বেশ প্রশংসার যোগ্য। এই মুভি ছিল টমের নিজের মুভি এবং পুরো মুভিতে তার স্ক্রিন প্রেজেন্স সেরকম ই ছিল। সাপোর্টিং রোলে জেন্ডায়া বরাবরের মতই শক্তিশালী। আন্ট মে চরিত্রে ‘ম্যারিসা টোমেই’ লাইভ একশনে দেখা বেস্ট আন্ট মে পারফরম্যান্স দিয়েছেন এই মুভিতে। মে আর পিটারের ডাইনামিক মুভির অন্যতম ইমোশনাল কোর ছিল। নেড চরিত্রে জ্যাকব ব্যাটালন ও আগের মতই হাসি এবং হার্ট-এ পরিপূর্ণ।

এবার আসা যাক ভিলেনদের কথায়। উইলেম ডেফো’র গ্রিন গবলিন- কোন শব্দ নেই কোন ডিকশনারিতে এই পারফরমেন্সের পর্যাপ্ত প্রশংসা করার জন্য। প্রায় ২০ বছর পরে এই লোক তার আগের রোলে ফিরে এসেছেন এবং একটা বিট ও মিস করেন নি। মনে হচ্ছিল আসলেই ২০ বছর আগের ইউনিভার্স থেকে জাম্প করে চলে এসেছেন আমাদের ইউনিভার্সে। এক্টিং-এর দিক থেকে টম হল্যান্ড আর উইলেম ডেফো ই সবচেয়ে বড় ইমপ্যাক্ট ফেলেছে। ডক অক চরিত্রে ‘আলফ্রেন্ড মোলিনা’ ও একদম স্পাইডারম্যান ২ এর সেই একইরকম ক্যারিশমা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। ‘জেইমি ফক্সে’র ইলেক্ট্রো বেশ পজিটিভ আপগ্রেড পেয়েছে মুভিতে। প্রায় সব ভিলেনরাই এখানে প্রাপ্য স্ক্রিনটাইম এবং স্টোরি পেয়েছেন, তবে সবার ভীড়ে গ্রিন গবলিন ই স্ট্যান্ডআউট। কমিকবুক ভিলেনদের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এই অসাধারণ পারফরমেন্স।

মুভিটি একই সাথে স্পাইডির সবচেয়ে মজাদার এবং সবচেয়ে বিষণ্ণ মুভি। ফ্যান সার্ভিসের বহর থেকে শুরু করে চরম হাসির কিছু মুহুর্তের পাশাপাশি রয়েছে এখনো পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে গ্রাউন্ডেড আর ইমোশনাল স্পাইডি স্টোরি। এই সিনেমায় টম হল্যান্ডের স্পাইডারম্যান খুবই ইনটেন্স এক আর্ক পার করে, ফলশ্রুতিতে বেশ বড় কিছু পরিবর্তন দেখা যায় তার চরিত্রে। প্রায় সব ফ্যানের কাছেই এই পরিবর্তন গ্রহনযোগ্যতা পাওয়ার কথা।

এই সিনেমা নিয়ে ফ্যানদের প্রত্যাশা গগনচুম্বী ছিল বললেও কম বলা হবে। সেই আকাশের সমান প্রত্যাশাকেও অতিক্রম করতে সফল হয়েছে ‘নো ওয়ে হোম’। প্রতিটা মোমেন্ট ডেলিভার করেছে নতুন এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। একের পর এক উৎসাহী চিৎকারে আরেকবারের মত সিনেমা হল পরিণত হয়েছিল স্টেডিয়ামে। তবে পুরো মুভি ভরে এমন এক্সাইটমেন্ট আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এমনকি এন্ডগেমেও নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখানে পুরোটা সময় পুরো থিয়েটার ভোকাল কর্ডের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে। সত্যিই তুলনাহীন এই অভিজ্ঞতা।

২০ বছরের সিনেমার লেগ্যাসির উপর ভর করে তৈরি হয়েছে ‘স্পাইডারম্যানঃ নো ওয়ে হোম”। আমাদের আগে যারা এসেছে তাদেরকে সর্বদা স্মরণে ও সম্মানের স্থানে রেখে তবেই আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারব। ‘নো ওয়ে হোম’ ট্রিবিউট দিয়েছে এই আগে আসা স্পাইডারম্যানের ইতিহাসকেই। সাথে আমাদের উপহার দিয়েছে আজীবন মনে রাখার মত স্পাইডারম্যানের এক এক্সাইটিং চ্যাপ্টার।

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *