ইসলামের ইতিহাসে তুর্কি জাতির অবদান

ইসলামের ইতিহাসে তুর্কি জাতির অবদান :মহান আল্লাহ তায়ালা ইসলামের অভ্যুদয়ের জন্য যে ভূখন্ড নির্বাচন করেছিলেন তা হলো আরব উপদ্বীপ ।স্বাভাবিকভাবেই আরব জাতিই এর গৌরবের অধিকারী হয়েছিল। আরব বেদুইনদের থেকে আমরা পেয়েছি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট বিজয়ীদের সন্ধান। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হয়েছে “খালিদ বিন ওয়ালিদ,ওমর ফারুক, আবু বকর,আলী, ওসমান “রাঃ এর মতো ব্যক্তির জীবনী।আমরা হয়েছি গৌরবান্বিত।

আল্লাহর ইচ্ছায় সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, রহমাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর আল্লাহ তার রাসুলের দাওয়াতের ঝান্ডা দান করলেন আবু বকর (রাঃ)কে।

তারপর একে একে এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন ফারুকে আযম,উসমান বিন আফফান এবং আলী রাঃ।৬৩২ সাল থেকে শুরু হয়ে ৬৬১ সাল পর্যন্ত মোট ত্রিশ বছর এ খেলাফত রাশেদা চালু ছিল। এরপর খেলাফতের দায়িত্বভার আসে ওমাইয়াদের কাছে। হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এর মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়াজিদের ক্ষমতা লাভের পর উমাইয়াগন ইসলামি রাষ্ট্রের ধারকবাহকে পরিণত হন।

কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে “কারবালার” মত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলে উমাইয়াগণ তাদের গ্রহনযোগ্যতা হারান।ইসলামি বিশ্বে তাদের সমালোচনা উত্তরোত্তর বৃদ্বি পাচ্ছিল।যদ্দরুণ উমাইয়ারা এসব সমালোচনা কঠোরভাবে দমন করে। তাদের হাতে শহীদ হন আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের,আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ সহ আরো বহু জাদরেল সাহাবি। বহু তাবেয়ীকে তারা হত্যা করে।এহেন সব কর্মের ফলস্বরূপ মাত্র একশো বছরের মাথায় তাদের পতন ঘটে।বিশাল বিশাল ভূখন্ড ইসলামের ছায়াতলে আনলেও তাদের জুলুমের কারণে পতন তরান্বিত হয়।

তবে তাদের মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ শাসকও ছিলেন, তিনি হলেন দ্বিতীয় উমর খ্যাত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহঃ।রাষ্ট্র পরিচালনায় যিনি খিলাফতে রাশেদাকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। যেহেতু উমাইয়াগণ অত্যাচারী ছিলেন তাই আব্বাসিয়রা এর সুযোগ নেয়।তারা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন,এবং মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছিলেন।

ইতোমধ্যে ৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে সংগঠিত গৃহযুদ্ধে উমাইয়াগণ দু ভাগে ভাগ হয়ে পড়েন যা তাদের কে দুর্বল করে দিয়েছিলো।ফলে আব্বাসিয়দের বিদ্রোহ তারা দমন করতে সক্ষম হননি এবং ৭৫০ সালে “জাবের” যুদ্ধে প্রথম আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফাহ্ র হাতে খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ান পরাজিত ও নিহত হন। ৭৫০ সালে আব্বাসিরা ক্ষমতার মসনদে আসার সাথে সাথে কার্যত ইসলামি বিশ্বে আরবদের আধিপত্য কমতে থাকে।

আব্বাসিয় খেলাফত রক্ষায় তুর্কিদের অবদান

৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসিয়রা উমাইয়াদের হঠিয়ে খেলাফতের মসনদ দখল করে। আব্বাসি আন্দোলন কে সহায়তা করেছিল পার্সিয়ানরা, যারা ছিল শিয়া।ফলে খেলাফতের শুরু থেকেই শিয়াদের একটি গভীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।কিন্তু শুরুর বেশ কয়েকজন শক্তিমান শাসক যেমনঃ আবুল আব্বাস, জাফর, হারুনর রশীদ প্রমুখ ব্যক্তিদের জন্য এই প্রভাব মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেনি।উপরন্তু আব্বাসিয়রা আরবিয়দের কে ভিন্ন জাতিসত্তার সাথে মিলিয়ে দিতে চাচ্ছিল।এরই পরিপ্রেক্ষিতে খেলাফতের মাত্র ১১ তম বছরে ৭৬১ খ্রিস্টাব্দে খেলাফতের রাজধানী দামেস্ক থেকে বাগদাদে সরিয়ে নেওয়া হয়,যা ইরানের খুব কাছাকাছি। খলিফা মামুনের আমলে ক্ষমতার ভেতরে র শক্তি আর গোপন থাকেনি।স্বয়ং খলিফা মামুনই বলেছিলেন সামানিয়রা (ইরানিরা) আরবদের ছাড়া হাজার বছর রাজত্ব করেছে,অথচ আমরা (আরবরা) তাদের ছাড়া একদিনও চলতে পারিনা।

খেলাফতের মাত্র পঞ্চাশ বছরের মাথায় স্বাধীন সালতানাতের উত্থান ঘটতে থাকে।এই ধারা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিল যে সমস্ত স্বাধীন সালতানাতের উত্থান ঘটেছিল তন্মধ্যে নিম্নের সালতানাত গুলো উল্লেখযোগ্য।

উত্তরপশ্চিম আফ্রিকা: ইদ্রিসি (৭৮৮-৯৭৪) → আলমোরাভি (১০৪০) → আলমোহাদ (১১২০-১২৬৯)।

ইফ্রিকিয়া (আধুনিক তিউনিশিয়া, পূর্ব আলজেরিয়া ও পশ্চিম লিবিয়া): আগলাবি (৮০০-৯০৯) → মিশরের ফাতেমীয় খিলাফত (৯০৯-৯৭৩) → জিরি (৯৭৩-১১৪৮) → আলমোহাদ (১১৪৮-১২২৯) → হাফসি রাজবংশ (১২২৯-১৫৭৪)।

(মিশর ও ফিলিস্তিন): তুলুনি (৮৬৮-৯০৫) → ইখশিদি (৯৩৫-৯৬৯) → ফাতেমীয় খিলাফত (৯০৯-১১৭১) → আইয়ুবীয় (১১৭১-১৩৪১) → মামলুক → (১২৫০-১৫১৭)।

আল জাজিরা (আধুনিক সিরিয়া ও উত্তর ইরাক): হামদানি (৮৯০-১০০৪) → মারওয়ানি ও উকায়লিদি (৯৯০-১০৮৫) → সেলজুক (১০৩৪-১১৯৪) → মঙ্গোল সাম্রাজ্য ও ইলখানাত (১২৩১-১৩৩৫)।

দক্ষিণপশ্চিম ইরান: বুইয়ি (৯৩৪-১০৫৫) → সেলজুক (১০৩৪-১১৯৪) → মঙ্গোল সাম্রাজ্য।

খোরাসান (আধুনিক ইরান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান): সামানি (৮১৯-৯৯৯) → গজনভি (৯৬২-১১৬৮) → সেলজুক (১০৩৪-১১৯৪) → ঘুরি (১০১১-১২১৫) → খাওয়ারেজমি (১০৭৭-১২৩১) → মঙ্গোল সাম্রাজ্য ও ইলখানাত (১২৩১-১৩৩৫)।

ট্রান্সওক্সিয়ানা (আধুনিক মধ্য এশিয়া): সামানি (৮১৯-৯৯৯) → কারাখানি (৮৪০-১২১২) → খাওয়ারেজমি (১০৭৭-১২৩১) → মঙ্গোল সাম্রাজ্য ও চাগতাই খানাত (১২২৫-১৬৮৭)।

এসবের মধ্যে ফাতেমিয় খিলাফত,ইদ্রিসি সালতানাত ছিলো শিয়া।শিয়ারা খেলাফতের সকল স্তরে প্রবেশ করেছিল, আর বুয়াইহি শিয়ারা খোদ খলিফাকেই জিম্মি করে রেখেছিল।ইরান ও খেলাফতের রাজধানী ইরাকে ছিল বুয়াইহিদের একচ্ছত্র আধিপত্য। আর বৃহত্তর সিরিয়া ও মিশরে গড়ে উঠেছিল ফাতেমি খিলাফত। যা সুন্নি আব্বাসি খিলাফত কে পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছিল।

মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই ভুমিগুলোতেই ইসলামের সেবক রূপে উত্থান ঘটে তুর্কিদের। তারপরে র ঘটনাগুলো মহান তুর্কিদের, যারা ইসলামকে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌছে দিয়েছিল।

খলিফা মুতাসিমের আমলে ই ৮৪০ খ্রীস্টাব্দ নাগাদ খেলাফতের প্রাণকেন্দ্র বাগদাদে তুর্কিদের উত্থান হয়।খলিফা মুতাসিম তুর্কি দাসদের নিয়ে রক্ষীবাহিনী গড়ে তুলেন। সময়ের ব্যবধানে তুর্কি রা খেলাফতের বড় বড় পদগুলো দখলে নেয়। আব্বাসিয়দের দরবারে তুর্কিদের প্রভাব এবং তাদের নিয়ে স্থানীয় আরবদের বিরোধিতা এতই বেড়ে গিয়েছিলো যে,খলিফা মুতাসিম অনুগত তুর্কিদের নিয়ে বাগদাদ থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে সামাররা শহরে আলাদা বসবাস করতেন।খলিফা আসলে তুর্কি দের মাধ্যমে ইরানিদের ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে চাচ্ছিলেন যারা কিনা খেলাফতের শুরু থেকে, বিশেষ করে খলিফা মামুনের আমলে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলো। কিন্তু এসব তুর্কি রা ছিল বিশৃঙ্খল, নানা রকমের ষড়যন্ত্রের জাল তারা বুনেছিল।তাদের হাতে খলিফা নিহত হওয়ার মতো ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছিলো।তুর্কিরা নিজেদের বিশৃঙ্খলার কারণেই পরবর্তীতে শিয়াদের কাছে তাদের ক্ষমতা হারায়। দশম শতাব্দীর শুরু থেকেই তুর্কিরা তাদের ক্ষমতা হারাতে থাকে।

৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে শিয়ারা ফাতেমী খেলাফত গড়ে তুলে। দশম শতাব্দী নাগাদ তারা সুন্নি আব্বাসিয়দের কাছ থেকে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, পুর্ব সিরিয়া, লেবানন,ফিলিস্তিন এবং হেজাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পবিত্র মক্কা মদিনা তাদের দখলে চলে যায়। ফাতেমিয়রা মিসরের কায়রো কে রাজধানিতে পরিণত করে। অন্যদিকে বোয়াইহি শিয়ারা দখলে নেয় ইরান ও খেলাফতের রাজধানি ইরাক।খলিফাকে তারা পুরোপুরি নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।খেলাফতের প্রতিটি পদ তারা নিজেদের দখলে নেয়

খেলাফত ধ্বংসের পথে তারা ভালোই এগুচ্ছিলো। ভাবে যখন একদিকে ফাতেমিয়রা মক্কা মদিনা সহ বিস্তৃত ভুমি দখলে নিয়ে নেয়, আর অন্যদিকে বোয়াইহি রা খোদ খলিফাকেই নিয়ন্ত্রণ করছিল তখন আবার তুর্কিরা উঠে দাড়ায়। তুর্কি নেতা তুগ্রিল বেগ বাগদাদে আসেন, এবং খেলাফত কে বোয়াইহি শিয়াদের থেকে মুক্ত করেন।প্রায় একশ বছরের বেশি সময় ধরে শিয়ারা খেলাফতকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।অবশেষে আল্লাহ তা’আলা র ইচ্ছায় ১০৫৮ খ্রিস্টাব্দে তুগ্রিল বেগ বাগদাদ কে মুক্ত করেন। আব্বাসি খিলাফত পতনের মুখ থেকে রক্ষা পায়।তুর্কি রা শুধু বোয়াইহিদের ধ্বংস করে ক্ষান্ত হয়নি,বরং ফাতেমীয়দের কাছ থেকে পুরো হিজাজ উদ্ধার করেন, পুর্ব সিরিয়া থেকে তাদের বিতাড়িত করেন।পরবর্তীতে আরেক তুর্কি নুরুদ্দীন যাংকী পুরো সিরিয়া থেকে তাদের বিতাড়িত করেন। তুর্কিরা প্রাথমিকভাবে বিশৃঙ্খল থাকলেও তাদের উত্থান ছিল ইসলামি বিশ্বের জন্য কল্যাণকর। তারা ইসলামি বিশ্বের মসনদ থেকে শিয়াদের সফলভাবে হঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

তুর্কিদের পরিচয় ও ইসলামের সাথে তাদের সম্পর্ক

তুর্কিদের বাসস্থান ঃ ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল মা ওরাউন নাহার হলো তুর্কিদের আদিভুমি।এটিকে তুর্কিস্থান বলা হয়ে থাকে।

এই বিশাল ভূখন্ড মধ্য এশিয়ার কেন্দ্রে অবস্থিত,একটি নদীবিধৌত ও সমভুমি এলাকা।আধুনিক উজবেকিস্থান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্থান এবং চিনের জিনজিয়াং নিয়ে এ অঞ্চলটি গঠিত। এর উত্তরে সাইবেরিয়ান স্তেপ,দক্ষিণে ইরান,পূর্বে তিব্বত এবং গোবি মরুভূমি ও পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগর অবস্থিত।

তুর্কিদের পরিচয় ঃতুর্কিদেরকে মুলত একটি জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।বর্তমান তুরস্কের অধিবাসীরা একমাত্র তুর্কি নয়।তুর্কিদের আদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো হুন।আধুনিক চীনের উইঘুর জনগোষ্ঠী, বর্তমান কিরগিজ,তুর্কমেন আর উজবেকরা বৃহত্তর তুর্কি জাতির অংশ। তুর্কমান জনগোষ্ঠীই হলো প্রধানতম তুর্কি জাতি।”তুর্কমান” শব্দটির দুটো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।ইবনে কাসিরের মতে তার অর্থ হলো ইমানদার তুর্কি আর মাহমুদ কাশগড়ির মতে, খাঁটি তুর্কিদের কে তুর্কমান বলা হয়।

তুর্কমানরাই ইসলামী ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। তুর্কিরা ছিল অধিকাংশ যাযাবর, দরিদ্র। কিন্তু তারা ছিল কঠোর পরিশ্রমী আর কষ্টসহিষ্ণু। সম্মান,আর রীতি-নীতির প্রতি তারা আজীবন অনুগত থাকতেন।তাদের এই বৈশিষ্ট্যগুলোই তাদেরকে ইতিহাসের শীর্ষস্থানে পৌছে দিয়েছিল।

ইসলামের সাথে তুর্কিদের সম্পর্কের প্রারম্ভিকতাঃ২২ হিজরী মোতাবেক ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমবাহিনী তুর্কিদের বাসস্থান বিলাদুল বাবের দিকে এগিয়ে যায়।সেনাপতি আব্দুর রহমান বিন রাবিয়া রাঃ তুর্কি নেতা শাহারবারজের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তুর্কি নেতা যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধির আবেদন করেন এবং আর্মেনিয়দের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর পাশাপাশি যুদ্ধ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।এভাবেই তুর্কিরা কোন যুদ্ধ ছাড়াই মুসলিম বাহিনীর সাথে একীভূত হয়। মুসলিমগণ আর্মেনিয়া, পারস্যের সাসানী সাম্রাজ্য দখল করলে এসব ভুমিতে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং তুর্কিদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় হতে দৃঢ়তর হতে থাকে।৬৫১ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানরা তুর্কিদের বাসস্থান মা-ওরাউন নাহার অঞ্চলে ছাউনি ফেললে তুর্করা দলে দলে ইসলাম গ্রহন করতে থাকে।মুসলিমবাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে,মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাঃ এর আমলে খোরাসান মুসলমানদের অধীনে আসার মাধ্যমে পুরো মা-ওরাউন নাহার ইসলামের ছায়াতলে আসে।(আগেই বলেছি,মা-উরাউন নাহার হলো তুর্কিদের বাসস্থান।)ফলে তুর্কিরা খাঁটি ইসলামি সভ্যতায় দীক্ষিত হয়েছিলেন।

তুর্কিদের স্বদেশ ত্যাগঃ তুর্কিরা নিজেদের স্বদেশ ত্যাগ করতে শুরু করেছিল ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ অর্ধাংশে।কিন্তু তারা কেন স্বদেশ ত্যাগ করছিল,এ ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ ভিন্নমত পোষণ করেন। কারো মতে এহেন বাস্তচুতির পেছনে সক্রিয় ছিল অর্থনৈতিক কারণ।আর কারো মতে রাজনৈতিক কারনে তারা স্বদেশ ত্যাগ করছিল।ক্রমান্বয়ে তারা তাবরিস্থান ও জুরজানে এসে থিতু হয় যেগুলো মুসলমানরা বিজয় করেছিল।

তুর্কিদের আনাতলিয়া আগমন

তুর্কিদের আনাতলিয়া আগমনঃ আব্বাসিয় খেলাফত ও বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল আনাতোলিয়া।এ অঞ্চলে সর্বদা যুদ্ধ লেগে থাকতো।এজন্য আব্বাসীয় খলিফারা খোরাসান থেকে আসা সৈনিকদেরকে আনাতোলিয়াতে স্থায়ী ঘাঁটি করে দিয়েছিলেন। খলিফা মাহদী ফারগানা (বর্তমান কিরগিজিস্তানের শহর) এবং বলখ (বর্তমান আফগানিস্তানের জেলা) থেকে তুর্কিদের এনে তাদের থিতু করেছিলেন আনাতোলিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলোতে। যেমন তারতুস, আযিন্নাহ, মারআশ, খারশানাহ ইত্যাদি। এসব অঞ্চল মুসলিম ও রোমানদের মধ্যবর্তী পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। খলিফা মামুন ও মুতাছিমের সময় আনাতোলিয়ায় তুর্কিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ওগুজ গোত্র ঃতুর্কমান তুর্কিদের একটি গোত্র হলো ওগুজ।সেলজুক সাম্রাজ্য, উসমানী খেলাফত এই ওগুজ তুর্কিরাই গড়ে তোলে। খোয়ারিজমি সাম্রাজ্য, তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের বিখ্যাত তৈমুর লং ওগুজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ওগুজরা বাইশটি গোত্রে বিভক্ত ছিল। পুরো তুর্কি জাতির মাঝে ওগুজরাই ছিল সবচে সাহসী জাতি।

তুর্কিদের গড়ে তোলা সাম্রাজ্যের তালিকাঃতুর্কিরা পৃথিবীজুড়ে বেশ কয়েকটি সাম্রাজ্য গড়ে তুলে।এসবের মধ্যে সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য হলো উসমানিয়া সাম্রাজ্য(১২৯৯–১৯২৩)। তিন তিনটি মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল এই সাম্রাজ্য।তারপর রয়েছে সেলজুক সাম্রাজ্য(১০৩৭—১৩০৭), তৈমুরীয় সাম্রাজ্য(১৩৭০—১৫০৭)। ভারতবর্ষের মামলুক সালতানাত(১২০৬—১২৯০) খিলজি সাম্রাজ্য (১২৯০—১৩২০)বিখ্যাত মুঘল সাম্রাজ্য(১৫২৬—১৮৫৭),মিশরের মামলুক সালতানাত(১২৫০—১৫১৭), তৈমুরীয় সাম্রাজ্য (১৩৭০—১৫০৭)জেঙ্গী সালতানাত(১১২৭—১২৫০) ইত্যাদি।

সোর্সঃ Devlet-E Alia-E Usmania

★★★সমাপ্ত★★

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *