অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক কী কারণ?

আমরা একটু খেয়াল করলে দেখবো, এর প্রধান কারন বায়োলজিক্যাল এইজিং। একসময় হার্ট এটাক-স্ট্রোক পরিচিত ছিল বয়স্কদের অসুখ হিসেবে। ষাটের আগে কারো এসব দেখা যেত না।

এটা আশির দশক-নব্বই দশকের কথা। ২০০০ সালের পর থেকে দেখা গেল, স্ট্রোক দেখা দিচ্ছে ৪৫ বছরের পর থেকেই। সময়ের সাথে সাথে দেখা গেল, ৩৫-৪০ বছর এবং এখন ২৫-৩০ বছরেও স্ট্রোক হচ্ছে। এর কারনটা কি??

হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণগুলি চিনে নিন আর ব্যবস্থা নিন

১)স্ট্রোক হয় মূলত আর্টারিওস্ক্লেরোসিস আই মিন ধমনীর গায়ে চর্বি জমা এবং ধমনীর দেয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া থেকে।

২)ধমনীর শক্ত হয়ে যাওয়া, মূলত একটা এইজিং প্রসেস। এটা ঘটে মূলত ধমনীর কোষের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ড্যামেজ, হাইপারইনসুলিনেমিয়া, ইনফ্ল্যামেশান এবং ল্যাক অফ রিলাক্সেশান ইত্যাদি থেকে।

৩)ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ড্যামেজের প্রধান উৎস হচ্ছে নিঃসন্দেহে ধুমপান, এবং এর সাথে আমাদের যোগ করতে হবে আমাদের চারপাশে থাকা নানাবিধ দূষনের কম্পোনেন্টকে।

৪)ধমনীর কোষগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল না হওয়া কোষগুলোর স্বাভাবিকের চেয়ে খারাপ ভাস্কুলার পারফরম্যান্সের কারন। এটা বেশি ঘটে শারীরিক পরিশ্রমে অনভ্যস্তদের ক্ষেত্রে।

৫)যারা দীর্ঘদিন ধরে একই সাথে সুগার, রিফাইন্ড কার্ব ও হাই স্যাচুরেটেড ফ্যাট-ট্রান্স ফ্যাটে ভরপুর খাবার খান, তাদের হাইপারইনসুলিনেমিয়া স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বয়সেই তৈরি হয়, ফলে যেখানে ধমনীতে প্লাক জমার কথা চল্লিশের পরে, সেখানে ১২ বছরের পর থেকেই প্লাক ফরমেশন শুরু হচ্ছে। আমি ১১ বছরের ছেলেরও ব্লক দেখেছি, এবং এগুলি ক্রমেই আরো বাড়ছে।

৬)কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমের জন্য ইসেনশিয়াল নিউট্রিয়েন্টস আমাদের ডায়েটে রীতিমত বিরল। ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-১,২,৩,৬,৯ ও ১২ কার্ডিওভাস্কুলার হেলথের জন্য প্রতি মুহুর্তের প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। ভিটামিন ডি, কে-২, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই ছাড়া আমাদের কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমে প্রতিমুহুর্তে হওয়া ক্ষতগুলো সেরে উঠতে পারে না। আর এই ক্ষতগুলো না সারলেই আমাদের শরীর বাড়াতে থাকে প্লাক তৈরি

৭)প্লাক তৈরির আরেকটি বড় কারন ক্রনিক স্ট্রেস এবং ক্রনিক স্লিপ ডেপ্রাইভেশান। আপনারা দেখবেন, সময়ের সাথে সাথে মানুষের এডুকেশান স্প্যান বাড়ছে। একসময় মানুষ পড়তো দশ-পনেরো বছর, এখন পড়ে প্রায় পচিশ বছর-ত্রিশ বছর। এটা একটা স্ট্রেস জেনারেটিং ফ্যাক্টর। আগে মানুষ দিনে কাজ করতো ৭-৮ ঘন্টা, এখন করে ১২-১৩ ঘন্টা। আর আজকের দুনিয়ায় প্রায় সব মানুষই স্লিপ ডেপ্রাইভড, সঠিক সময়ে যথেষ্ট ঘুমাচ্ছেন না কেউই। আমাদের শরীর কিভাবে ঠিক করবে ভেতরের ক্ষতগুলো??

৮)আমাদের টেস্টোস্টেরন লেভেল সরাসরি এইজিংয়ের সাথে জড়িত। টেস্টোস্টেরন সঠিক মাত্রায় থাকলে তা আমাদের হার্ট এটাক-স্ট্রোক থেকে সুরক্ষা দেয়। আগে মানুষের ৫০ বছরের পর যে লেভেলের টেস্টোস্টেরন দেখা যেত, এখন তা দেখা যাচ্ছে ২৫-৩০ বছর বয়সে। দিস ইজ দ্যা রিয়ালিটি।

অর্থাৎ, বায়োলজিক্যালি ২০২১-২২ সালের একজন ৩০ বছরের পুরুষ অনেক সময় ১৯৭০ সালের একজন ৫৫ বছরের পুরুষের সমান। যদিও টেস্টোস্টেরন একমাত্র ফ্যাক্টর না, কিন্তু সবচেয়ে জরুরী ফ্যাক্টরগুলোর এটা একটা।

জিনেটিক ফ্যাক্টর, ফ্যাট মেটাবলিজম এগুলোর কথা এখন আর লিখলাম না। এই কারনগুলি এখন পুরুষদের হার্ট এটাক-স্ট্রোকের সহজ শিকারে পরিনত করছে ২৫-৩০ বছরেই।

এটাকে থামাতে হলে বদলাতে হবে সামগ্রিক জীবনাচরন এবং জীবন ও সুস্থতা সম্পর্কে আমাদের সম্পুর্ণ ধারণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *